ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে প্রায় ৬ বিলিয়ন বা ৬০০ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে ইসরায়েল। এ ক্ষতির বড় একটি অংশ অবকাঠামোগত। খবর দ্য ন্যাশনাল।
ইসরায়েলি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আমির ইয়ারন সম্প্রতি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের জিডিপি প্রায় ১ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার কোটি শেকেল বা ৫৯০ কোটি ডলারের সমতুল্য ক্ষতির কারণ হবে এ যুদ্ধ।
আরব আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব রামাল্লার অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসের মুফরেজের মতে, এ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে ব্যাপক সম্পত্তি ধ্বংস, ইসরায়েলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে আয় হ্রাস এবং উৎপাদন ও কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব।
ইসরায়েল ইরানজুড়ে একাধিক হামলা চালানোর পর ১৩ জুন শুরু হয় এ যুদ্ধ। এতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবকাঠামো। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, ফলে তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক ভবন, একটি হাসপাতাল ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা চালিয়ে আসছে তেল আবিব। সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, দুটি হামলা মিলিয়ে চলতি বছরে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা হলেও ধাক্কা খাবে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের প্রধান রাল্ফ উইগার্ট বলেন, ‘চলতি বছরে ইসরায়েলের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষ শুরুর পর পরই তা কমিয়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল শিগগিরই পূর্ণ উৎপাদনে ফিরে গেলে জিডিপি কিছুটা বাড়তেও পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সামরিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহে ইসরায়েলের ব্যয় পুনরায় বাড়বে। এতে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ প্রক্ষেপিত ৫ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে আরো বাড়বে।’
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সামরিক ব্যয় বাড়বে। এতে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছবে।’
আরো বলা হচ্ছে, সরকারি ঋণ ৬৯ থেকে বেড়ে ৭৪ শতাংশে পৌঁছবে। তবে ইসরায়েলের শক্তিশালী বৈদেশিক অবস্থান, প্রচুর মুদ্রার রিজার্ভ ও মধ্যম মাত্রার ঋণ বোঝা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত এপ্রিলে ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে’ জানিয়েছিল, চলতি বছর ইসরায়েলের অর্থনীতি ৩ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি পাবে।
এদিকে ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কাছ থেকে হাজার হাজার ক্ষতিপূরণ দাবি এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে ঘরবাড়ি ও যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি পূরণের আবেদন।
গত বুধবার পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার ৬৫১টি আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৩২ হাজার ৯৭৫টি কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির, ৪ হাজার ১১৯টি যানবাহন এবং ৪ হাজার ৪৫৬টি গৃহস্থালি আসবাব ও যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে।
কর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আরো কয়েক হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোর জন্য এখনো কোনো দাবি জমা পড়েনি।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের অন্যতম গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়েইজমান ইনস্টিটিউটে হামলা চালায় ইরান, এতে ভবনটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া হাইফা বন্দরের বাজান জ্বালানি তেল পরিশোধনাগারে হামলা চালিয়ে তা অচল করে দেয় এবং অবকাঠামো ধ্বংস করে তেহরান।
কর কর্তৃপক্ষের ক্ষতিপূরণ বিভাগের প্রধান আমির দাহান সংসদের অর্থনৈতিক কমিটিকে সম্প্রতি জানান, ক্ষতিপূরণ দাবির পরিমাণ ৫০০ কোটি শেকেল বা ১৪৭ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।